পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিনের কোনো একসময় পুলক চ্যাটার্জি সমকালের বরিশাল ব্যুরো কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন চৌধুরী কার্যালয়ে এসে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। বিষয়টি বাড়ির মালিক ও পাশের অফিসের সহকর্মীদের জানানো হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি চিরকুটের মধ্যে স্ত্রী, কন্যা, ছোট ভাই, বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের উদ্দেশে বিভিন্ন বার্তা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রশাসনের উদ্দেশে লেখা চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথা উল্লেখ করেছেন পুলক চ্যাটার্জি। সেখানে শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের চিকিৎসার প্রসঙ্গও রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও অনুরোধ করেছেন তিনি।
স্ত্রী ও মেয়ের উদ্দেশে লেখা চিরকুটে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন কথা লিখেছেন। ছোট ভাইকে পরিবারের পাশে থাকার অনুরোধও করেছেন তিনি। এছাড়া সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে স্মৃতিচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন পাওনা এবং দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশাল ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের মে মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে হতাশায় ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।
মন্তব্য করুন