ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ১৮৮ কর্মকর্তার বদলি প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে সংস্থাটি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, অভিযোগের অনুসন্ধানে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। দুদকের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটাকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ। অভিযোগের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বদলি, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সরকারি কেনাকাটায় একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ। তবে অভিযোগের সব দিকের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে দুদক। দুদকের পক্ষ থেকে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হলেও এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অনুসন্ধান ও পরবর্তী তদন্তে অভিযোগের ব্যাপকতা, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ওই অভিযোগ থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পালনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। বর্তমানে আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে এনসিপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার খবর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অবস্থানের বাইরে দুদকের অনুসন্ধানকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রয়োজন হলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই এখন মূল বিষয়। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং অনুসন্ধানে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার মধ্য দিয়েই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। এখন দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার এই দাবি পরবর্তী তদন্তে কতটা প্রমাণিত হয়, শেষ পর্যন্ত সেটিই হবে অভিযোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য করুন