মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা সদর উপজেলার ময়নামতি গ্রামের প্রায় তিনশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক ‘নটির/বাহাই নুরজাহান’ মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনটি জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে দাখিল করেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গোমতী নদীর উত্তর তীরবর্তী ময়নামতি গ্রামের এই প্রাচীন মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর সংরক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম মাণিক্যের শাসনামলে নূর জাহান নামে এক নারী মসজিদটি নির্মাণ করেন। যদিও এই ঐতিহাসিক তথ্যের বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও এটি কুমিল্লার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী জানান, বর্তমানে মসজিদটির দেয়াল, গম্বুজ এবং মূল কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং কুমিল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ জরিপ পরিচালনা, মসজিদটির প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, “আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্রাচীন মসজিদ। এটি সংরক্ষণ করা বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক উদ্যোগ নিলে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”
ইতিহাসবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ শুধু ঐতিহ্য রক্ষাই নয়, বরং ইতিহাসভিত্তিক গবেষণা, শিক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহলও ময়নামতির ঐতিহাসিক নুরজাহান মসজিদটি সংরক্ষণে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন