কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযানে নেমে লুঙ্গি পরেই ধাওয়া দিয়েছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেটি পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত সীমান্তসংলগ্ন আশাবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তারা ভয়ভীতি ও হামলার হুমকি দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয়দের মাধ্যমে গোপন তথ্য পেয়ে শুক্রবার দুপুরে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন ব্যক্তিগত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে এক সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সে সময় তিনি লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি সড়কের ওপর ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা একদল সন্দেহভাজন মাদককারবারীর জমায়েত দেখতে পান বলে জানান স্থানীয়রা।
সংসদ সদস্য এগিয়ে গেলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি তাদের ধাওয়া দেন। পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে যান বলে জানা যায়। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন—এমন অভিযোগে নবীনগর উপজেলা থেকে আসা দুই যুবককে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংসদ সদস্য। পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দুই যুবককে ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এলাকাকে মাদকমুক্ত করা। সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অঞ্চলে মাদকের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই আমি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায়, প্রয়োজনে রাতেও, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করি। আমার এলাকায় হয় মাদককারবারিরা থাকবে, নতুবা আমি। মাদকের বিরুদ্ধে আমার এই জিহাদ অব্যাহত থাকবে।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন