নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাম্প্রতিক সময়ে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা জি.কে.বি. অ্যান্ড কোম্পানী (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস.এম গোলাম কিবরিয়া শামীম’কে নিয়ে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ বুধবার প্রকাশিত ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ শীর্ষক সংবাদটি জিকে শামীমের নজরে এসেছে। সেই প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
প্রকাশিত নিউজের বিষয়ে জিকে শামীম বলেন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম।আমি ব্যাক্তিগতভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। তবে ব্যক্তিজীবনে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে নিজেকে জড়াই নি।আমি অতীতে যেসব ঠিকাদারী কাজ করেছি তার মান নিয়ে কেউ কখনো কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনি। আমি সরাসরি সকল নিয়ম নীতি মেনেই কাজ করেছি।আমার প্রায় ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কাজ চলমান থাকার অবস্থায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সালে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। আমি দীর্ঘ ৬ বছর কারাগারে ছিলাম। ওই সময় আমার বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইটের যন্ত্রপাতিসহ যাবতীয় মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। চলমান সকল ঠিকাদারী কাজ ফ্যাসিবাদের দোষর চক্র দখল করে নেয়। আমার সকল বিল আটকে দিয়ে আমাকে আর্থিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ওই সময় আমাকে গ্রেপ্তারের নেপথ্যে মূল কারণ ছিল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম।
আমাকে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে ‘যুবলীগের নেতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে এই নিউজে।অথচ তৎকালীন যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতারা পরিষ্কার করে বলেছেন ‘এস.এম গোলাম কিবরিয়া শামীম বা জিকে শামীম কখনই যুবলীগের কমিটিতে ছিলেন না এবং তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
জাতীয়বাদী দলের আর্দশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম বলে আমাকে স্বৈরাচারের দোষররা আমি ও আমার পুরো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। অথচ এতো কিছুর পর ও আমাকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে যুবলীগের নেতা বানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিব্রতকর ।
আমি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী চক্রান্তের শিকার হয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ ৬ বছর জেল খাটার পর আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হয়। আমাকে বানানো হয় ক্যাসিনো কারবারী। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি আমি কোন দিন ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ত ছিলাম না ক্যাসিনো কি জিনিষ সেটাও আমি জানিনা।আমি কোথাও ক্যাসিনো খেলেছি বা ক্যাসিনো কারবারে জড়িত রয়েছি তার একটি ভিডিও ফুটেজ বা ছবি থাকলে সেটা জন সম্মুখে প্রকাশ করার বিনীত অনুরোধ করছি। এধরনের ছবি বা ফুটেজ থাকলে আমি প্রকাশ্যে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে রাজী আছি। এটা আমার অপেন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কোন প্রমাণ ছাড়া শুধু প্রপাগান্ডা আর মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী আখ্যা দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারনে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকার আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে। আমার ব্যাংক হিসাব জব্দ ও যাবতীয় সম্পদ ক্রোক করে। এমনকি আমার ৯০ বছরের বৃদ্ধ মাকেও জেলে যেতে বাধ্য করে। আমার জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস ও উলটপালট করে দেয়। আল্লাহর অসীম দয়ায় আমি শুধু প্রাণে বেঁচে আছি।
প্রকাশিত সংবাদে ‘রেলওয়ের বিজ্ঞাপনে একক নিয়ন্ত্রণ চান জিকে শামীম’ প্রসঙ্গে যা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি আদালতের নির্দেশে কারা মুক্ত হওয়ার পর মাত্র একবারের জন্য রেল ভবনে গিয়েছি। যে কাজের কথা বলা হচ্ছে সেখানে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ দিবেন এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।আমার কাগজ পত্রের সকল বৈধতা যাচাই করে উন্মুক্ত দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ পেয়েছি।এখানে আমি কোন অনৈতিক বা অসততার আশ্রয় নেইনি।
প্রকাশিত সংবাদে আমার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের কথা বলা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি জীবনে কোন দিন দেশের বাইরে একটি টাকাও পাচার করেনি। আমার কোন সন্তান দেশের বাইরে লেখা পড়া করে না। আমার দেশের বাইরে কোন সম্পদ নেই। আমার যাবতীয় সম্পদ বৈধভাবে অর্জিত। আমি দেশের সর্বোচ্চ করদাতাদের অন্যতম একজন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে আমার প্রতিষ্ঠান ১৯৯১ সাল হতে দীর্ঘ তিন যুগ ধরে একটি তালিকাভূক্ত কোম্পানী হিসেবে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুনামের সহিত কাজ করে আসছে।
মন্ত্রীমহোদয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে উক্ত কাজটি ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে বিজ্ঞাপন নীতিমালার’ আলোকে সহযোগিতা করার জন্য মন্ত্রালয় থেকে রেলওয়েকে অনুরোধ করে; যা প্রমান করে, আমার প্রতিষ্ঠান সকল নিয়ম কানুন মেনে ব্যবসা করতে আগ্রহী।
এদিকে একই দৈনিকে ১৬ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় সম্পাদকীয়তে ‘রেলের বিজ্ঞাপনে যুবলীগ নেতা: মাফিয়াদের পুনর্বাসন করা যাবে না’ শীর্ষক একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। অসত্য তথ্য সম্বলিত সম্পাদকীয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
মন্তব্য করুন