মোঃ শাহজাহান বাশার
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) কনফারেন্স ও হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর ১৫তম ওরশ শরীফের প্রথম দিনের আখেরি মুনাজাত সম্পন্ন
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর অনুপম চরিত্র, মহানুভবতা, ক্ষমাশীলতা ও মানবপ্রেম অনুসরণের মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারী হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
তিনি বলেন, মহানবী (ﷺ)-এর পবিত্র জীবন ছিল মানবিক মহানুভবতার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। তাঁর অনুসারীদের চরিত্রেও ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য, বিনয় ও মানুষের প্রতি সম্মান প্রতিফলিত হওয়া উচিত। নবীপ্রেম কেবল আবেগের বিষয় নয়; মহানবী (ﷺ)-এর আদর্শকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মধ্যেই নবীপ্রেমের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
তিনি বলেন, মহানবী (ﷺ) বিরোধিতা ও বৈরিতার জবাবও ক্ষমা, সহনশীলতা ও মহানুভবতার মাধ্যমে দিয়েছেন। তাঁর চরিত্রে দুর্বল-অসহায় মানুষের প্রতি মমতা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, এতিম-দুঃখীর প্রতি সহানুভূতি এবং মানুষের মর্যাদার প্রতি গভীর সম্মান ছিল। বর্তমান বিশ্বে যখন বিদ্বেষ, বিভাজন ও সংঘাত বাড়ছে, তখন মহানবী (ﷺ)-এর এই মানবিক আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, “মহানবী (ﷺ)-এর চরিত্রের সৌন্দর্য শুধু মুসলিম সমাজের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি অনুপম আদর্শ। তাঁর মহানুভবতা, দয়া ও ক্ষমাশীলতার শিক্ষা অনুসরণ করতে পারলে মানুষের মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বন্ধন শক্তিশালী হবে।”
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে আয়োজিত কনফারেন্স ও হুজুর গাউছুল ওয়ারা, শায়খুল ইসলাম হযরত শাহসুফী সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী কাদ্দাসাল্লাহু সিররাহুল আজিজের ১৫তম ওরশ শরীফের ২রা ভাদ্রের প্রথম দিবসের কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া-এর আয়োজনে এ কনফারেন্স ও ওরশের প্রথম দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর ১৫তম বার্ষিক ওরশ শরীফ ১৭ ও ১৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরাম কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ মইনুদ্দীন আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী এবং বর্তমান সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ মইনুদ্দীন আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারী।
বিদেশি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক সুন্নী ইসলামিক মিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আলোচক আল্লামা পীর শাহ নাবীল আখতার নওয়াজী নকশবন্দী (মু.জি.আ.) এবং ভারত থেকে আগত ইসলামিক স্কলার পীরজাদা হযরত মাওলানা বায়েজীদ আশরাফী।
এ ছাড়া দরবারের খলিফাবৃন্দ, বরেণ্য ওলামা-মাশায়েখ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা মহানবী (ﷺ)-এর আদর্শ, নবীপ্রেম, মানবিকতা ও মহানুভবতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ওরশ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন রয়েছে। সমাপনী দিবসে আখেরি মুনাজাত পরিচালনার কথাও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি হযরত শাহসুফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন। মুনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও ঐক্য, দেশ ও জাতির কল্যাণ, মানবতার মুক্তি এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
মন্তব্য করুন