News Admin
১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ফরিদপুরে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিতর্কিত সমবায় কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই সদর উপজেলায় পুরস্কার পোস্টিং পেলেন ?

বিপ্লব, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং সমবায়ীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ফরিদপুরের সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। সর্বশেষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিজ জেলা ফরিদপুর সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে পুনরায় যোগদান করেছেন তিনি। দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে একই ফরিদপুর জেলায় বিভিন্ন পদে খুঁটি গেড়ে বসা এই কর্মকর্তার এমন পদায়নে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় সমবায়ীদের মাঝে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় :
স্থানীয় সমবায়ীদের অভিযোগ, মোহাম্মদ আফজাল হোসেন বোয়ালমারী উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন এবং পূর্বের জেলা সমবায় কর্মকর্তাগণের ছত্রছায়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সমবায়ীদের জিম্মি করে ঘুষ গ্রহণ, নিরীক্ষায় (অডিট) অনিয়ম, এবং দিবস ও অডিট ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ফরিদপুরের একটি বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মোহাম্মদ আফজাল হোসেন ফরিদপুরের সমবায় খাতকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন। ফরিদপুর ও বোয়ালমারীতে থাকার সময় অডিট বা নিরীক্ষার নামে আমাদের প্রতিটি সমিতিকে জিম্মি করে নির্বাচনের নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। টাকা না দিলে অডিটে ত্রুটি দেখিয়ে সমিতির নিবন্ধন বাতিল করার ভয় দেখাতেন। আমরা সাধারণ সমবায়ীরা তাঁর কাছে পুরোপুরি জিম্মি।”

নির্বাচনী জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব :
ফরিদপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাচনী কার্যক্রমেও অবৈধভাবে ক্ষমতা খাটানো, জালিয়াতি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রার্থীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ভূক্তভোগী একজন সমবায়ী সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নির্বাচনে তিনি যে জালিয়াতি আর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তা নজিরবিহীন। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ভোটার তালিকা ও প্রার্থী বাছাইয়ে প্রভাব খাটিয়েছেন। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের শ্রমিক লীগের সন্ত্রাসী অসমবায়ীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন। তাঁর এই অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।” এই বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত মামলা হলেও সেখানে তাঁর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল। এরপরেও সেই রায় আজ পর্যন্ত কার্যকর করেন নাই। এর মাধ্যমে তিনি আদালত অবমাননার কাজে সামিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ’ ফরিদপুর শাখার নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ সমবায়ীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানান। স্থানীয় সমবায় আন্দোলনের এক সিনিয়র নেতা বলেন, “সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তিনি ব্যক্তিগত ফায়দা লুটেছেন। কোনো সরকারি কর্মকর্তার এমন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা সম্পূর্ণ বেআইনি।”

পূর্বের অভিযোগ ও ক্ষোভ

এর আগে ২০১৭ সালেও ফরিদপুরের একাধিক সমবায় সমিতি ও সমবায় ব্যাংকের নেতৃবৃন্দ তাঁর হয়রানি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে সমবায় অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বার বার অভিযোগ ওঠার পরও কোনো অদৃশ্য ইশারায় তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

সমবায়ীদের দাবি :
ক্ষুব্ধ সমবায়ীদের অভিযোগ, একের পর এক অনিয়ম করার পরও তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকে ফরিদপুর সদর দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে।

ফরিদপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি জানান, “প্রতিবারই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে পার পেয়ে যান। তদন্ত হওয়ার বদলে তাঁকে পুরস্কৃত করে ফরিদপুর সদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। আমরা সমবায় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ জানাবো, এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারণ করে ফরিদপুরের সমবায়ীদের বাঁচান।”

ফরিদপুর সদর সমবায় কার্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে এবং সাধারণ সমবায়ীদের হয়রানি থেকে বাঁচাতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন জেলার সমবায়ীবৃন্দ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমবায় দপ্তরের দায়িত্বশীল কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
#

মন্তব্য করুন

[wpdevart_facebook_comment curent_url="https://dhakarbarta24.com/2026/07/10/%E0%A6%AB%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8/" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চাটমোহরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

রাজাপুরে প্রথমবার মাদকবিরোধী মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড: আটক ৩ , তদন্তে নতুন মোড়

অ্যাডভোকেট হাবিবুল হক পেলেন ‘টপ পারফর্মার অ্যাওয়ার্ড

কুমি শিক্ষিকার সন্তান অপ্রতিম হ ত্যা জড়িত সন্দেহে আটক তুহিন

কোটবাড়ী থেকে নিখোঁজ কুবি শিক্ষকের ১৩ বছরের ছেলে

মহান শিক্ষা দিবসে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্র ইউনিয়নের পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদীতে বজ্রপাতে কৃষক নিহত, আহত ১

বাংলাদেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, পোশাকশিল্পে বাড়ছে ক্ষতি

শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, ধর্ষণের অভিযোগ

১০

স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে ১১৪ ভেন্যুতে পুলিশের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু

১১

কুমিল্লায় নকল সিগারেট তৈরির কারখান! মেশিনসহ গ্রেফতার ৯

১২

মতিঝিল বিভাগে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১

১৩

টেকনাফে ১০ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি আটক

১৪

মুরাদনগরে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন ২০ ঘণ্টার মধ্যে মূলহোতাসহ ৩ আসামি গ্রেফতার

১৫

নিখোঁজের সাতদিন পর বস্তাবন্দি শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

১৬

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে চুনারুঘাটে ছাত্র ইউনিয়নের কুইজ প্রতিযোগিতা ও লিফলেট বিতরণ

১৭

চাঁদের পাশে ‘সন্ধ্যাতারা’, বিরল সৌন্দর্যে মুগ্ধ আকাশপ্রেমীরা

১৮

চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ৩০হাজার টাকা নিলেন বিএনপির ৩নেতা!

১৯

মেধাবীদের বাংলাদেশ: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা মো. আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ

২০