মাহফুজ বাবু, কুমিল্লা।।
গোমতী নদীর চরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আমেজের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী কুমিল্লা জেলা ইজতেমা। জেলা ভিত্তিক আঞ্চলিক ইজতেমা আয়োজনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের গোমতী নদীর চরে এ ইজতেমা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয় আম বয়ানের মধ্য দিয়ে। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ, আত্মশুদ্ধি ও দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিন দিনব্যাপী এ ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তাবলিগ জামাতের অনুসারীরা। আগামী শনিবার (৭ নভেম্বর) জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের জেলা ইজতেমা।
কুমিল্লা জেলা সদরের অদূরে পালপাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে গোমতী নদীর চরে ইজতেমার বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা মাঠে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও অস্থায়ী টয়লেটের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ইজতেমার তিন দিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তাবলিগ জামাতের মুরব্বিরা গুরুত্বপূর্ণ ঈমানি ও দ্বীনি বয়ান পেশ করবেন। এসব বয়ানের মাধ্যমে মুসল্লিদের ইসলামী জীবনবিধান, আমল-আখলাক ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
এদিকে, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে নেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী ও নিরাপত্তা কার্যক্রম। তাবলিগ জামাতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পালপাড়া এলাকার যুবসমাজের স্বেচ্ছাসেবীরাও মুসল্লিদের সেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ বক্স। সব মিলিয়ে গোমতীর তীরে ইজতেমা মাঠে বিরাজ করছে ধর্মীয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
যেভাবে আসবেন কুমিল্লা জেলা ইজতেমায়
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে বুড়িচং সড়ক ধরে প্রায় তিন কিলোমিটার উত্তরে পালপাড়া ব্রিজে পৌঁছাতে পারবেন। সেখান থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই ইজতেমার মাঠ।
অন্যদিকে, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে উত্তর দিকে বালিখাড়া ব্রিজ পার হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্ব দিকে গেলেই পৌঁছানো যাবে ইজতেমার আয়োজনে নির্ধারিত স্থানে।
গোমতী নদীর তীরে আয়োজিত এ জেলা ইজতেমায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মুসল্লিদের আগমন শুরু হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইজতেমা মাঠে বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি।