শেখ মোহাম্মদ পারভেজ, পাবনা
ঈশ্বরদী (পাবনা): দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বৃহস্পতিবার অনুমোদন পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইউনিটটি সক্রিয় অপারেশনাল পর্যায়ে প্রবেশ করল। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরের শেষভাগে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছিল। পরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্যার সমাধান করা হয় এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির পর রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক ফিশন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা বাড়ানো হবে। নির্ধারিত পর্যায়ে পৌঁছানোর পর টারবাইন সিনক্রোনাইজেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সংযোগ স্থাপন করা হবে।
গ্রিডে সংযোগের পরও পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম চলবে। এ পর্যায়ে প্রায় সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।