হাফিজুর রহমান, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা):

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামের নুর ইসলাম ড্রাইভারের ছেলে শাহিনুর রহমান শাহীনসহ তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা নেওয়া, অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা, পাওনা টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা এবং পাওনাদারকে মামলা-হামলার হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা ৪ নম্বর গেট এলাকায় বসবাসকারী শাহীন দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর সুরেশ্বর মহোৎসব বাজারে ‘ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ’ নামে সাদা মাছের কমিশন আড়ত পরিচালনা করছেন। তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগীও বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থ লেনদেন ও যোগাযোগের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মাছের আড়তের আড়ালে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় সাদা মাছের কমিশন ব্যবসা পরিচালনার সুবাদে শাহীন বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করে আসছেন। ব্যবসায় লাভের কথা বলে কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার পর পরবর্তীতে টাকা ফেরত দিতে নানা অজুহাত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিষয়টি মীমাংসার পরিবর্তে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলা-হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

পশ্চিম নলতা গ্রামের হাফিজুর রহমানের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে শাহীন বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ, ৩ লাখসহ মোট প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন।

সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সময় অতিবাহিত হওয়ার পর শাহীন টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগও করেছেন হাফিজুর রহমান।

সালিশে সমাধানের চেষ্টা, উল্টো হুমকির অভিযোগ

পাওনা টাকা উদ্ধারে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শাহীন ও তার সহযোগীরা সালিশে বিষয়টি সমাধানের পরিবর্তে পাওনাদারকে মামলা ও হামলার ভয় দেখান।

আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

ভুক্তভোগী হাফিজুর রহমান জানান, তার কাছে শাহীনের দেওয়া ব্যাংক চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে পাওনা টাকা উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

শাহীনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

অভিযোগের বিষয়ে শাহিনুর রহমান শাহীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহীনসহ অভিযুক্ত অন্য তিন সহযোগীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

তদন্তের দাবি

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, শাহীনসহ তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে প্রতিবেদনটিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও আইনগত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।