নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আত্মসাৎ চক্রের মূলহোতা দেবিদ্বার এলাকার ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত লাইলি আক্তার(৩৫)কে ফের আটক করেছে পুলিশ। তবে ব্ল্যাকমেইল বা চাঁদাবাজির অভিযোগে নয়, এবার মাদক বিক্রয় কালে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন সেই লাইলী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দেবীদ্বার নিউমার্কেট রহমানিয়া সুপার মার্কেটের পেছনে ভাড়া বাসা “আহসান মঞ্জিল” থেকে ইয়াবাসহ লাইলিকে আটক করে।

আটককৃত লাইলি আক্তার(৩৫) উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে। সে দির্ঘদিন যাবৎ আহসান মঞ্জিলের ভাড়া বাসায় থেকে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের সহযোগীতায় পতিতাবৃত্তি সহ মাদক ব্যাবসার আড়ালে হানি ট্র্যাপ পরিচালনা করে আসছিলো বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ফাঁদে ফেলে পরে কৌশলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করতেন। এরপর চক্রের সদস্যদের সহায়তায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

এর আগে চলতি বছরের ৭ এপ্রিল ওই একই বাসায় (‘আহসান মঞ্জিল’) অবস্থানকালে পর্নগ্রাফি মামলায় লাইলি আক্তার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে এসে একই বাসায় আবারো মাদক ব‍্যবসা শুরু করেন।

জানা যায় লাইলির হানিট্র্যাপ থেকে বাদ যায়নি প্রায় স্থানীয় অর্ধশত বিএনপি, আ’লীগ নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

সম্প্রতি উপজেলার জাফরগঞ্জ মাজেদার আহসান মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ‍্যালয়ের শিক্ষক মোকবুল হোসেন মাষ্টার এর উপর নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, প্রশাসনের নজরে আসে লাইলী। ওই বাসায় আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে টাকার জন‍্য বেঁধে রেখে বেধরক মা’রধ’র করা অবস্থায় ঐ শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষকের মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।

গত ৭ এপ্রিল মুকবল মাস্টার বাদী হয়ে অভিযুক্ত লাইলি আক্তারকে এজহারভূক্ত করে এবং অজ্ঞাত ৩ নারী ৫ পুরুষ সহ চক্রের ৮ জনের নামে পর্ণগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, লাইলি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে দেবীদ্বারসহ আশেপাশের এলাকায় একটি শক্তিশালী অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। তার মূল কৌশল ছিল প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী পরিবারগুলোকে টার্গেট করা। চক্রের তরুণীদের ব্যবহার করে প্রেমের অভিনয়ে ফাঁদ পাতা হতো।

তবে অভিযোগের বিষয়ে লাইলী বলেন, আমি ভালো হয়ে গেছি। আমার ছেলে মাদক ব‍্যবসা করে। ছেলে রাতে ঘুমিয়েছিল, তখন তার বন্ধুরা এসে ইয়াবা চাইলে আমি জানালা দিয়ে ইয়াবা দেয়ার সময় কেউ পুলিশকে ফোন দিয়ে আমাকে ধরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, এ নারী খুবই ধুরন্দর, সে জামিনে এসে আবারো মাদক ব‍্যাবসায় জড়িয়ে পড়েছে। তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। তার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনা হবে