মোঃ শাহজাহান বাশার
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় জোট। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা লং মার্চে অংশ নিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে লং মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।
শিমরাইল মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “২০২৪ সালে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়েছিলেন, এই রাস্তার কথা মনে পড়ে? শহিদদের দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ইনশা আল্লাহ, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”
তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের চুলায় গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য, আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।”
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে, প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১১ দল আপনাদের পাশে আছে। এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন। আমরা সফল হবো। ইনশা আল্লাহ, আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবি সামনে রেখে এ লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় এবং দেশের চলমান সংকট নিরসনে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা শিমরাইল মোড়ের ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লং মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে।
লং মার্চটি ঢাকা থেকে যাত্রা করে পথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করবে। এরপর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
জোটের নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা না করে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ঘোষিত ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও বলেন, জনগণের দাবি আদায় এবং দেশের চলমান সংকট নিরসনে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ লং মার্চ। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জোটের নেতারা।
শিমরাইলের পথসভায় আরও বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা মো. আব্দুল জব্বার।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনউদ্দিন আহমাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মমিনুল হক সরকার, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মাসউদুর রহমান গিয়াস, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা আবদুল কাইয়ুম, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক শওকত আলী, সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লং মার্চকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইলসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপও তৈরি হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের দাবি আদায় ও দেশের চলমান সংকট নিরসনে তাদের এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।