মোঃ শাহজাহান বাশার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘One World: One Humanity’। আগামী ২৯ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।

আয়োজকদের আমন্ত্রণে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী সম্মেলনে প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেবেন। আন্তর্জাতিক এ আয়োজনের মূল আলোচনায় আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, বিশ্বশান্তি, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান এবং ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানবজাতির ঐক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাবে বলে জানা গেছে।

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মীয় নেতা, চিন্তাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ধর্মীয় বিভাজন, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও সামাজিক মেরুকরণের বিপরীতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও মানবিক ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংলাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।

ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী ২৮ আগস্ট ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

মাইজভাণ্ডারী দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে শান্তি, মানবতা, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরা হয়ে আসছে। এর আগে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং উগ্রবাদ ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমেও তাঁর এসব বক্তব্য ও কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নিউইয়র্কের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শান্তি, সহাবস্থান ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব যখন যুদ্ধ, সংঘাত, ধর্মীয় বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের নানা সংকটে আক্রান্ত, তখন ‘One World: One Humanity’—এক বিশ্ব, এক মানবতার এই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সংলাপে বাংলাদেশের একজন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতার অংশগ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সুফি সংস্কৃতি, মানবিক মূল্যবোধ এবং শান্তি ও সম্প্রীতির দর্শন তুলে ধরবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে তাঁর বক্তব্য ও অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ধর্মীয় সহনশীলতা এবং মানবিক ঐক্যের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।