মোঃ শাহজাহান বাশার
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৬: রোহিঙ্গা সংকট শুধু মানবিক সমস্যা নয়, বরং বাংলাদেশের মানবিক নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, পিএসসি, জিআই।
রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘Challenges of Rohingya Repatriation: International Politics and National Priorities’ শীর্ষক সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, গত নয় বছর ধরে পরিকল্পনাহীনভাবে নেওয়া এই দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে বসবাসরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে। এসব ক্যাম্পে ৬ থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং ২০১৭ সাল থেকে তাদের বিরুদ্ধে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এবং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমনের পর ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে প্রমাণিত হয়, ধৈর্য ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে পরিচালিত কূটনীতি কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনতে পারে।
বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ছয়টি কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে—জাতিসংঘ, ওআইসি, চীন ও ভারতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা; চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা; মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ; রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা; পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক কাঠামো তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া।
সেমিনারে তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৫ আগস্ট ২০২৬-এর ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান গণহত্যার মামলার প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ওই ঘোষণাকে প্রকৃত ও আন্তরিক প্রত্যাবাসনের সদিচ্ছার প্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ কম।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন। বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনা ও বাস্তবতার সমন্বয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।