কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লার চান্দিনায় মুদি দোকানের বকেয়া টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানদার ও তার ছোট ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত দুই ভাইকে প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা উপজেলার ৮ নম্বর বরকট ইউনিয়নের খিরাসার মোহনপুর গ্রামে।
আহতরা হলেন—মুদি দোকানদার মো. সোহেল ও তার ছোট ভাই সোহাগ। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, গতকাল দোকানে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য কয়েকজনকে বলাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে নাজমুল, আজাদ, কামাল, আনিস ও আশিকসহ কয়েকজন ব্যক্তি সোহেলের দোকানে প্রবেশ করে হামলা চালান। এ সময় দোকানের ক্যাশে বসে থাকা সোহেলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার বাম হাতের তালুতে গুরুতর জখম করা হয়। ভাইকে রক্ষা করতে সোহাগ এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সোহেলের বাম হাতের আঘাত গুরুতর হওয়ায় এবং উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় সোহেল ও সোহাগকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে, হামলার সময় দোকান থেকে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে আহতদের পরিবার। তবে এ অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ঘটনায় আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর হামলা, লুটপাট ও অন্যান্য অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিবেদকের নোট: হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে সংযোজন করা হবে।