মোঃ শাহজাহান বাশার
মানবপ্রেম, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির আদর্শকে সমাজে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, আওলাদে রাসূল (ﷺ), হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী বলেছেন, “মানবপ্রেম, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির পথই হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.)-এর জীবনদর্শন। তাঁর শিক্ষা আজও সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দিশারি।”
তিনি বলেন, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ (ক.) তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষকে আল্লাহভীতি, নৈতিকতা, মানবকল্যাণ, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দিতে। সততা, সহিষ্ণুতা, সহানুভূতি, ধৈর্য, ক্ষমা ও ত্যাগের মতো গুণাবলি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে বিভেদ, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়ে সম্প্রীতি ও মানবিকতার সমাজ গড়ে উঠবে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত গাউছুল ওয়ারা শায়খুল ইসলাম শাহসুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৫তম বার্ষিক পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে আগামী ১৭ ও ১৮ আগস্ট দুই দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার সন্ধ্যায় মাইজভাণ্ডার গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মমিন। গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মনজিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্ট এবং মইনীয়া যুব ফোরামসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ওরশের সকল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে।
সভায় হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব আলহাজ কাজী মহসিন চৌধুরী, পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী ভজন কুমার বর্মন, নাজিরহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান, ফটিকছড়ি থানার এসআই মো. রবিউল ইসলাম, ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক মোরশেদ মুন্না, ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার পংকজ কুমার বড়ুয়া, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী উচ্ছাস বড়ুয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মহিউদ্দিন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আব্দুল মমিন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো ভক্ত-অনুরাগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যানবাহন পার্কিং, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও জনসেবামূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওরশকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের জুয়া, সার্কাস, মাদক বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
সভায় আরও জানানো হয়, আগত ভক্তদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসাসেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স এবং সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী ১৭ ও ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী পবিত্র ওরশ শরীফে বিশেষ নসিহত, জিকির-আযকার, দোয়া মাহফিল এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে। সমাপনী দিনে আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের ওরশ শরীফ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সেবামূলক পরিবেশে সফলভাবে সম্পন্ন হবে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো ভক্ত-অনুরাগীর জন্য একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।