মোঃ শাহজাহান বাশার
ঢাকা, ৩ আগস্ট: ‘যে রঙে লেখা ইতিহাস, সে রঙেই আঁকা ক্যানভাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে দুই দিনব্যাপী ‘লাল জুলাই’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, চিত্র প্রদর্শনী, গ্রাফিতি অঙ্কন, মোমবাতি প্রজ্বলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে আন্দোলনের নিহত ও আহতদের স্মরণ করেন শিক্ষার্থীরা।
গত ২ আগস্ট শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রথম দিনে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অঙ্কনের পাশাপাশি সন্ধ্যায় শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, আন্দোলনের তাৎপর্য এবং গণতান্ত্রিক চেতনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে কারাবন্দী হওয়া তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য আ জ ম কামাল উদ্দিন, প্রফেশনাল সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. এরশাদ আলী রহমান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমীর হোসেন এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. কামাল চৌধুরী।
এছাড়া বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও কলেজ শিবিরের সভাপতি নাজমুল হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ হোসাইন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ হোসেন জিহাদ এবং তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন্নেছা বুশরা। সংহতি জানিয়ে অংশ নেন ‘আলোর পাঠ’-এর আদনান ইসলাম রাতুল, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সাদিকুল ইসলাম সাব্বির, ‘গ্রীন ভয়েস’-এর সভাপতি এহসানুল হক হৃদয় এবং ‘তাদের পাশে আমরা’ সংগঠনের সহ-সভাপতি ফজরুল আমিন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত সাংবাদিক ইসমাইল সরদার ও আহত শিক্ষার্থী এস এম আলবার অর্কসহ আরও কয়েকজন অংশগ্রহণকারী তাদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা ও সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (প্রশাসনিক) মো. নুর নবী আল মাহমুদ এবং ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) মোহাম্মদ রফিকুল আলম। তবে আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে অফিসিয়াল কারণ দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ (প্রশাসনিক) অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। এছাড়া উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেননি।
কলেজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রশাসনের অনুপস্থিতি হতাশাজনক এবং এর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় তেজগাঁও কলেজে নানা ধরনের নিপীড়ন ও প্রতিকূলতা ছিল। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্লাব একসঙ্গে কাজ করেছে। সেই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই আমরা ‘লাল জুলাই’ আয়োজন করেছি।”
তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, প্রশাসনের অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করেন। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের এই মন্তব্য ও শঙ্কা তাদের নিজস্ব বক্তব্য; এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দুই দিনের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন সাখাওয়াত ফারহান, রাফসানুল হক কল্লন, মুহাম্মদ নিয়াজ মিয়া, মেসুত হিমেল, মুরসালিন খান, সোয়েব আহম্মেদ সিয়াম, ইনতেখান হোসেন রাফি, এস এ সাইম, ফারদিন এবং তাবাসসুম।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বৈষম্য, সহিংসতা ও কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।