নিউজ ডেস্ক 
আজকের যুগে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নৈতিকতা নিয়ে কথা উঠলেই যে কটি নাম সামনে আসে, তাদের মধ্যে সাংবাদিক মো. শাহজাহান বাশার অন্যতম। বর্তমান করপোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের যুগে যেখানে সাংবাদিকতা প্রায়শই নিজস্ব গতিপথ হারায়, সেখানে তিনি এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তিনি বিশ্বাস করেন, সত্য কখনোই বিক্রি হয় না এবং একজন সাংবাদিকের মূল শক্তিই হলো তার নৈতিকতা।
শাহজাহান বাশারের লেখনীর মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যবসায়িক স্বার্থের পকেটবন্দি হওয়া যাবে না। এই বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “একজন সাংবাদিক কোনো নির্দিষ্ট দলের বা সরকারের নয়; সাংবাদিক হলো দেশের সম্পদ।” তার প্রতিটি কলাম এবং নিবন্ধে সমাজ সংস্কার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা উঠে আসে। নতুন সমাজ গঠনের যে রূপরেখা তিনি তার লেখনীতে এঁকেছেন, তা তরুণ সাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
ব্যস্ততা ও পেশাদারিত্বের মেলবন্ধন
খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার এই লেখনী পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এত অল্প সময়ে তিনি এতটা জনপ্রিয়তা লাভ করবেন, তা তিনি নিজেও কখনো ভাবেননি। শাহজাহান বাশারের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে একটি প্রাইভেট চাকরির পাশাপাশি সাংবাদিকতাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি প্রতিদিন নিউজ লেখার পাশাপাশি সমাজ সচেতনতামূলক কোনো না কোনো কলাম নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।
কেবল লেখার টেবিলেই নয়, মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি সমানভাবে সক্রিয়। বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাথে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ তৈরিতে কতটা আন্তরিক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, সেসব প্রতিকূলতা দূর করতে তিনি সর্বদা সোচ্চার।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি লজিস্টিকস ও পরিবহন খাতের মতো ভিন্নধর্মী ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিন্তাভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা তাকে সমাজের তৃণমূল স্তরের মানুষের সমস্যাগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখার এবং বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। তার এই বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গিই তার লেখাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
মো. শাহজাহান বাশারের মতো নির্ভীক ও আদর্শবাদী কলামিস্টদের লেখনী আজ আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তথ্য ও প্রযুক্তির এই যুগে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে তার প্রদর্শিত পথ এবং নৈতিক অবস্থান পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করতে পারে। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তার কলম এভাবেই আজীবন সচল থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।