গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখ রাজধানীর নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান এবং ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপি’র সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সাথে একই এলাকার মজনু ও শহীদ গ্রুপের মারামারি হয়।
গত ১ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ বুধবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষই মীমাংসার জন্য সালিশে বসে। সেখানে কোনো সমাধান না হওয়ায় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের উপর মজনু ও শহীদ আক্রমন করে। এসময়ে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা আক্রমন প্রতিহত করতে গেলে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশা ও সাদ্দামকে উপর্যুপরি আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষত বিক্ষত করে।
আহতদের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে বাদশার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসকগণ পরীক্ষা—নিরীক্ষার পর বাদশাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আসামীদের গ্রেফতারে র্যাব—২ গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে।
গত ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব—২ জানতে পারে এই হত্যাকান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত মোঃ সুমন (২৫) জামালপুর জেলার সদর থানা এবং মোঃ শহীদ (৫৯) কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানা এলাকায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব—২ ও র্যাব—১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের অভিযুক্ত মোঃ সুমন (২৫) ও মোঃ শহীদ (৫৯)’ কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সুমন ও শহীদ র্যাবের নিকট ও পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নিহত বাশারকে পারভেজ ছুরিকাঘাত করে বলে স্বীকার করে। আহত সাদ্দাম হোসেনও একই স্বীকারোক্তি প্রদান করে যে পারভেজই তাদেরকে ছুরিকাঘাত করে। এসকল স্বীকারোক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যনুযায়ী র্যাব-২ উক্ত মামলার প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখে।
বিকালে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে র্যাব-২ এর অধিনায়ক
নয়মুল হাসান বলেন,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ নিশ্চিত হয় এই হত্যাকান্ডের এজাহারনামীয় ২ নং আসামি এবং সুইস গিয়ার চাকু দিয়ে আহত নিহতগণকে আঘাতকারী প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ ও র্যাব—১৪ এর যৌথ আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানা এলাকা হতে হত্যাকান্ডের ০২ নং আসামি এবং প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ (৩০)কে অদ্য ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ ভোর ৫.ঘটিকায় গ্রেফতার করে।
একই তারিখে র্যাব-২ এর অপর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন কারওয়ান বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মহরম (৩০)’কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পিসিপিআর যাচাই করে দেখা যায়ঃ পারভেজের নামে— ডিএমপি’র মোহাম্মদপুর থানায় বে—আইনি সমাবেশ, মারপিট, চুরি, ভীতি প্রদর্শনের ০১টি মামলা রয়েছে।
আসামি মহরমের নামে ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চোরাইমাল গ্রহণের ০১টি মামলা রয়েছে।ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ০৫ টি মামলা রয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ০১টি ওয়ারেন্ট ইস্যু রয়েছে।ডিএমপির হাতিরঝিল থানায় ০১টি মাদক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর তানবির হোসেন জোহা বলেন,ফ্যাসিস্টের বটবাহিনী এআই জেনারেটরের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ভিডিও ব্যবহার করে অনলাইনের বিভিন্ন হোয়ার্সাপ গ্রুপ টেলিগ্রাম গ্রুপে গুজব ছড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। এই বিষয়ে দুইটা মামলাও হয়েছে।
আমরা কাজ করছি।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তার নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য আসামি গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।