র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব-৩ প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গত ৯ এপ্রিল ২৩ ইং ঢাকা মহানগরীর মতিঝিল ও ওয়ারী এলাকা থেকে বহুল আলোচিত ২০২২ সালে বগুড়া সদর থানা এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে লিটনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর মামলার দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক প্রধান আসামি মোঃ মোমিন (২৭) মোঃ তৈয়ব (২৯)মোঃ তানজিল (২৮) ও মোঃ রাহুল (২০)’কে গভীর রাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
দুপুরে র্যাব-৩ এর প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেঃকর্ণেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান,গ্রেফতারকৃত আসামী তৈয়ব, তানজিল ও রাহুল তিন আপন ভাই এবং ধৃত মোমিন তাদের আপন মামা। এছাড়াও ভিকটিম লিটন একই গ্রামে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করত। ধৃত আসামিরা বগুড়ার সদর এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে।
উক্ত বিরোধের জেরে গত ১৬ জুলাই ২০২২ তারিখ সকাল ১১.ঘটিকার দিকে ধৃত রাহুল এবং সালমান পরস্পর বাকবিতন্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পাশের বাড়ির বাসিন্দা ভিকটিম লিটন ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। উল্লেখ্য যে, ভিকটিম লিটনও পূর্ব হতে তাদের মাদক ব্যবসার বিরোধিতা করে আসছিল যার জন্য উক্ত মামলার প্রধান আসামি ধৃত মোমিনের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল।
পরবর্তীতে ধৃত রাহুল ভিকটিম লিটন ও সালমানকে শায়েস্তা করার জন্য তার দুই ভাই তৈয়ব ও তানজিল, তার মামা মোমিন, নানা সোলাইমান, খালা রিতা বেগম এবং খালাত ভাই রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে ডাক দিলে তারা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড, ধারালো চাকু, ধারালো হাসুয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ভিকটিম লিটনের বাড়িতে হামলা চালায়।
মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তানজিল, রাহুল, তৈয়ব, সোলাইমান ও রাব্বি তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে লিটনকে নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। সেসময় ভিকটিমকে আসামিদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ভিকটিমের ভাই রাশেদ এবং বোনজামাই আজিজুল এগিয়ে গেলে তাদেরকেও আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম লিটনের অবস্থা আশংকাজনক দেখে তৎক্ষণাত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে ১৭ জুলাই ২০২২ তারিখ ভোর রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম লিটনকে মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে প্রচার হলে দেশব্যপী ঘটনাটি নিয়ে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই সংক্রান্তে বগুড়া জেলাধীন সদর থানার মামলা নং-৩৪, ১৭ জুলাই ২০২২ মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলায় মোমিনকে প্রধান আসামি এবং তানজিল, রাহুল, তৈয়ব, সোলাইমান, রাব্বি, রিতা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার দিন রাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উক্ত মামলার ৭নং আসামি রিতা বেগমকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে পলাতক থাকা অবস্থায় ৫নং আসামি সোলাইমান ঘটনার কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করে। গতরাতে র্যাব-৩ কর্তৃক ০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত মামলার ৬নং আসামি রাব্বি বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলমান রয়েছে।
ধৃত আসামিরা উক্ত ঘটনার পর নিজ এলাকা হতে পালিয়ে রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় আত্মগোপন করে এবং স্থানীয় একটি টেইলার্সের দোকানে তাদের নাম ও পরিচয় গোপন করে ছদ্ম পরিচয়ে দর্জির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।
ধৃত আসামিরা সকলেই মাদকাসক্ত এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও তারা বগুড়া সদর এলাকায় চিহ্নিত এবং প্রতিষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী। তারা মূলত মাদক ব্যবসা করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। ধৃত মোমিন ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে দুইবার মাদকদ্রব্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়ে ৪৫ দিন এবং ৫১ দিন কারাভোগ করেছে। ধৃত তানজিলের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এবং ধৃত তৈয়ব এর বিরুদ্ধে বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানায় ২০০৪ সালের একটি মারামারি মামলা রয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।