বুড়িচং প্রতিনিধি: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ১ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খলিল ওরফে ‘মাছ খলিল’, পিতা—দুলু মিয়াকে ঘিরে এলাকায় নানা অভিযোগ ও আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত খলিল বর্তমানে বাড়ি, গাড়ি ও বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বাড়ি মদিনা মার্কেট এলাকায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মাদক ব্যবসা ও কথিত চোরাচালানের মাধ্যমে খলিলের সম্পদ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে কসমেটিকস পণ্যের আড়ালে কথিতভাবে বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে আনার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, ওই চক্রের সঙ্গে খলিলের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী কাজ করছেন। রাতের আঁধারে কথিত মাদক সরবরাহ ও লেনদেন পরিচালিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত খলিলের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা খলিলের কথিত সম্পদের উৎস নিয়ে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একসময় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত একজন ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে বাড়ি, গাড়ি ও বিপুল সম্পদের মালিক হলেন? তার বর্তমান সম্পদের বৈধ আয়ের উৎস কী?
স্থানীয় কয়েকজন তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে দাবি করলেও এর কোনো স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ও উৎস জানতে ভূমি রেকর্ড, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, ব্যবসায়িক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগেরও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
অভিযোগটি সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
খলিলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ রয়েছে; তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে।
পুলিশের ভাষ্য, তদন্তে কোনো অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলে তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত খলিলের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ফলে মাদক ব্যবসা, কথিত চোরাচালান এবং তার সম্পদের উৎস নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খলিলের নিজস্ব বক্তব্য এ প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টিকে নিছক গুঞ্জন হিসেবে এড়িয়ে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করবে। তদন্তে মাদক ব্যবসা, কথিত চোরাচালান, সম্পদের উৎস এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে খলিলের কথিত সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ ও বৈধ আয়ের উৎসও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার অভিযোগের কোনো ভিত্তি না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
মাদকদ্রব্যের বিস্তার একটি এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ও তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। তাই ‘মাছ খলিল’কে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে যেমন প্রমাণ ছাড়া সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই, তেমনি অভিযোগগুলোকে গুরুত্বহীন গুঞ্জন হিসেবেও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
রাষ্ট্র ও জনস্বার্থে এখন মূল প্রশ্ন—একসময় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত খলিলের বর্তমান সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? মাদক ব্যবসা বা চোরাচালানের সঙ্গে তার আদৌ কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না? আর অভিযোগের কোনো সত্যতা থাকলে এতদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড কীভাবে চলেছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য জনসম্মুখে তুলে ধরবে।
মন্তব্য করুন